নিজস্ব প্রতিবেদক-
নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে অটোরিকশা চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল চক্রের সদস্যসহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন খণ্ডিত যন্ত্রাংশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোছাঃ রুমা বেগম (৪০), মোঃ আমিনুল ইসলাম (৩৭) এবং চোরাই অটোরিকশা ক্রয়কারী মোঃ লাল মিয়া (৪৮)।
গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জামালপুর সদর থানাধীন বেলটিয়া-লাঙ্গলজোড়া রাস্তার মিয়ারপাড়া এলাকায় অটোরিকশা চালক মোঃ আলমগীর হোসেনকে (৩৮) চেতনানাশক খাইয়ে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে সটকে পড়ে ছিনতাইকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুস্থ হয়ে আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে রুমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় পেনাল কোডের ৩২৮/৩৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই জামালপুর জেলা শাখা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই গত ২ সেপ্টেম্বর এজাহারনামীয় আসামি রুমা বেগমকে গ্রেফতার করে। রুমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি জড়িত আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ক্রয়কারী লাল মিয়াকে তাঁর নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। লাল মিয়ার বসতঘর থেকেই ভুক্তভোগীর খণ্ডিত অটোরিকশার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, ভুক্তভোগী আলমগীর ও আসামি রুমা পূর্বপরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে অটোরিকশা রিজার্ভ করার কথা বলে আলমগীরকে মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকায় ডেকে নেন রুমা। সেখানে আমিনুল ইসলাম ও পলাতক আসামি মোঃ আঃ রহিম কৌশল করে চেতনানাশক মেশানো ‘ফ্রুটু জুস’ পান করিয়ে আলমগীরকে অচেতন করে রাস্তার পাশে ফেলে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।
পরে অটোরিকশাটি লাল মিয়ার কাছে ৬০,০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। লাল মিয়া তা ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতে এবং পুরো চক্রটি উন্মোচনে পিবিআইয়ের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 









