০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ চালুর দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি

The gallery was not found!

বান্দরবান প্রতিনিধি।।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল প্রতিমন্ত্রীর কাছ এই স্মারকলিপি পেশ করেন।

আয়কর মওকুফে বৈষম্যের অভিযোগ:
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, সরকার সম্প্রতি পাহাড় ও সমতলের সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর মওকুফের প্রস্তাব করলেও একই অঞ্চলে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া বাঙালিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, গত তিন দশক ধরে কেবল উপজাতিরাই এই করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে বাঙালিরা করের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি সংবিধানের ‘নাগরিকদের সমঅধিকার’ নীতির পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন।

বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ চালুর দাবি:
স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তিন পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম অলিখিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সোনালী, ইসলামী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকসহ ১৭টি ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। বাজারফান্ড এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৮০ শতাংশই বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং এই ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, “সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব”।

তারা জানান, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে বাঙালিরা দীর্ঘকাল ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। পার্বত্য চুক্তির সিংহভাগ সুবিধাও কেবল উপজাতিরাই ভোগ করছে বলে তারা দাবি করেন। এই বৈষম্য দূর করতে এবং পাহাড়ের সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক লোন দ্রুত চালুর জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

স্মারকলিপি দেয়ার সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবসারসহ বান্দরবান জেলা ও পৌরসভা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লামা চাম্বি মৌজায় ​৭১৭ নং আর হোল্ডিং এর ৪ একর পুনর্বাসন ভূমি হারালো মৃত রবি উল্যার পরিবার: জালিয়াতির মাধ্যমে জবর দখলের অভিযোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ চালুর দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি

Update Time : ০১:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি।।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল প্রতিমন্ত্রীর কাছ এই স্মারকলিপি পেশ করেন।

আয়কর মওকুফে বৈষম্যের অভিযোগ:
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, সরকার সম্প্রতি পাহাড় ও সমতলের সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর মওকুফের প্রস্তাব করলেও একই অঞ্চলে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া বাঙালিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, গত তিন দশক ধরে কেবল উপজাতিরাই এই করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে বাঙালিরা করের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি সংবিধানের ‘নাগরিকদের সমঅধিকার’ নীতির পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন।

বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ চালুর দাবি:
স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তিন পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম অলিখিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সোনালী, ইসলামী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকসহ ১৭টি ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। বাজারফান্ড এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৮০ শতাংশই বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং এই ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, “সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব”।

তারা জানান, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে বাঙালিরা দীর্ঘকাল ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। পার্বত্য চুক্তির সিংহভাগ সুবিধাও কেবল উপজাতিরাই ভোগ করছে বলে তারা দাবি করেন। এই বৈষম্য দূর করতে এবং পাহাড়ের সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক লোন দ্রুত চালুর জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

স্মারকলিপি দেয়ার সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবসারসহ বান্দরবান জেলা ও পৌরসভা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।